ক্যানভাসে নিজের ভিন্ন সত্তার মুখোমুখি জনি ডেপ

অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পাশাপাশি চিত্রকলায় নিজের আরেকটি সত্তা খুঁজে নিচ্ছেন তিনি।

খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ার পরও অনেক শিল্পীর ভেতরে নতুন কিছু সৃষ্টির তাগিদ রয়ে যায়। রুপালি পর্দা, মঞ্চ কিংবা সংগীতের বাইরের সে জগৎ কখনো প্রকাশ পায় ক্যানভাসে, কখনো রঙের আঁচড়ে। হলিউড অভিনেতা জনি ডেপও এখন সে পথের যাত্রী। অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পাশাপাশি চিত্রকলায় নিজের আরেকটি সত্তা খুঁজে নিচ্ছেন তিনি।

‘এডওয়ার্ড সিজারহ্যান্ডস’, ‘এড উড’ কিংবা ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’র মতো চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডেপ এবার নিজের ভেতরের আলো-আঁধারি তুলে ধরছেন ক্যানভাসে। সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে ঐতিহ্যবাহী মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামে (এমএএম) শুরু হয়েছে তার একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘জনি ডেপ: এ বাঞ্চ অব স্টাফ প্রেজেন্টস ফিগারস অব দ্য ফ্রিঞ্জ’। দেশটিতে এটি ডেপের প্রথম শিল্পকলা প্রদর্শনী। এর আগে ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের চেলসি আর্ট ডিস্ট্রিক্টে প্রদর্শনীটির প্রথম আয়োজন হয়। সে সময় আর্টনেট নিউজ মন্তব্য করেছিল, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে গিয়েও শিল্পচর্চা ডেপের মননশীলতার অংশ।

সাংহাইয়ের প্রদর্শনীতে ডেপের কাজের প্রধান ভাবনার মধ্যে রয়েছে ‘বীর ও প্রতিমা’, ‘প্রেমিক ও অনুপ্রেরণা’ এবং ‘মুখোশ ও দ্বৈত রূপ’। রুপালি পর্দায় বারবার ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা একজন শিল্পীর কাছে এসব বিষয় নতুন এক অর্থ পেয়েছে। অভিনয়ে যে চরিত্রগুলোকে তিনি নিজের শরীর ও কণ্ঠ দিয়ে প্রকাশ করেছেন, ক্যানভাসে এসে সেগুলোর বাইরে নিজের অনুভূতি এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডেপের শিল্পচর্চা অবশ্য শুধু প্রদর্শনী কক্ষেই থেমে থাকছে না। চীনে তার সফরকে ঘিরে রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক যাত্রার পরিকল্পনাও। দেশটির ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাচ্যের দীর্ঘ নান্দনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন তিনি। প্রদর্শনীটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামের পরিচালক শাই বায়টেল।

তারকাখ্যাতির আরেকটি প্রকাশ, নাকি শিল্পী হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরির চেষ্টা? জনি ডেপের চিত্রপ্রদর্শনী সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও তার মননশীলতা আরেকটি দরজা খুলে দিচ্ছে।

সূত্র: আর্টনিউজ

আরও