পাবলো পিকাসো তার পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। শিল্পচর্চাকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মানের কাজগুলোর মধ্যে পিকাসোর বিপুল শিল্পসম্ভার অন্যতম। তাই নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি শিল্পীদের তালিকায় পিকাসোর নাম থাকা বিস্ময়ের কিছু নয়। তার একাধিক শিল্পকর্মের দাম ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া তার পাঁচটি শিল্পকর্ম নিয়ে এবারের আয়োজন।
ওম্যান সিটিং নিয়ার আ উইন্ডো ১৯৩২
ছবিটি মারি তেরেজকে কেন্দ্র করে আঁকা। এ ছবিতে পিকাসো তার মডেলের শরীর ও আকর্ষণীয় মুখাবয়বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রেমিকা, মডেল ও দেবী—তিন ভূমিকাতেই যেন উপস্থিত মারি-তেরেজ। ছবিতে মডেলের শরীরের স্ফীত বাঁক ও পোশাকের ভাঁজে তার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। ২০২১ সালের ১৩ মে নিউইয়র্কের ক্রিস্টিজের টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ইভনিং সেলে ছবিটি ১০ কোটি ৩৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।
বয় উইদ আ পাইপ, ১৯০৫
১৯০৫ সালে আঁকা ‘পাইপ হাতে বালক’ পিকাসোর রোজ পিরিয়ডের সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্মগুলোর একটি। ছবিতে প্যারিসের এক কিশোর শ্রমজীবীকে দেখা যায়। মডেল হিসেবে শিল্পী ব্যবহার করেছিলেন ‘পতি লুই’ নামে পরিচিত এক কিশোরকে।
প্রাথমিক নকশাগুলোয় পিকাসো মডেলটিকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে এঁকেছিলেন। শেষ ছবিতে বালকটি উদাস দৃষ্টিতে শূন্যের দিকে তাকিয়ে আছে। বাঁ হাতে ধরে আছে পাইপ, যার ডাঁটি নিজের শরীর থেকে দূরে নির্দেশ করছে। মাথায় গোলাপের মুকুট এবং পেছনের দেয়ালে দুটি বড় ফুলের তোড়ার উপস্থিতি ‘পতি লুই’-কে এক রহস্যময় ও বিষণ্ন চরিত্রে পরিণত করেছে।
২০০৪ সালের ৫ মে নিউইয়র্কের সদবিজে ছবিটি ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।
ন্যুড, গ্রিন লিভস অ্যান্ড বাস্ট, ১৯৩২
১৯৩২ সালের ন্যুড, গ্রিন লিভস অ্যান্ড বাস্ট পিকাসোর আরেকটি অসাধারণ ও আবেদনময় মাস্টারপিস। এখানেও তার প্রেমিকা মারি-তেরেজ ওয়াল্টারকে দেখা যায়। ১৯৩০-এর দশকের পর ছবিটি খুব কমই প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৯৫১ সালে সংগ্রহে যাওয়ার পর মাত্র একবার এটি প্রদর্শিত হয়।
২০১০ সালের ৪ মে নিউইয়র্কে ক্রিস্টিজের ইম্প্রেশনিস্ট অ্যান্ড মডার্ন আর্ট ইভনিং সেলে ছবিটি ১০ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়। সে সময় এটি পিকাসোর চিত্রকর্মের সর্বোচ্চ মূল্য এবং নিলামে বিক্রি হওয়া যেকোনো শিল্পকর্মের জন্য বিশ্বরেকর্ড তৈরি করেছিল।
লে রিভ, ১৯৩২
২২ বছর বয়সী মারি-তেরেজকে নিয়ে আঁকা এ ছবিতে ফুটে উঠেছে এক আবেদনময় ও আকর্ষণীয় নারীর প্রতিকৃতি। তখন পিকাসোর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল চূড়ান্ত ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে। কথিত আছে, ১৯৩২ সালের ২৪ জানুয়ারি মাত্র এক বিকালেই ছবিটি আঁকা হয়েছিল।
২০০১ সালে ছবিটি ক্যাসিনো ব্যবসায়ী স্টিভ উইনের কাছে অজ্ঞাত মূল্যে বিক্রি হয়। ধারণা করা হয়, দাম ছিল প্রায় ৬ কোটি ডলার।
২০১৩ সালে এসএসি ক্যাপিটালের স্টিভেন এ. কোহেন ছবিটি উইনের কাছ থেকে কেনেন। ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ ক্রিস্টিজে ব্যক্তিগত বিক্রির মাধ্যমে ছবিটি ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।
ওমেন অব আলজিয়ার্স, ১৯৫৫
পিকাসো ১৯৫৪-৫৫ সালে একটি সিরিজ করেছিলেন। ছবিটি সিরিজের শেষ কাজ। ১৯ শতকের ফরাসি শিল্পী ইউজিন দেলাক্রোয়ার কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পিকাসো এ সিরিজে এক নতুন ধরনের চিত্রভাষা তৈরি করেছিলেন।
২০১৫ সালের ১১ মে ক্রিস্টিজের লুকিং ফরওয়ার্ড টু দ্য পাস্ট ইভনিং সেলে ১৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলারে ছবিটি বিক্রি হয়।
সূত্র: আর্টস্পার ম্যাগাজিন