প্রথম পাতা

বিদায়ী ভাষণ

মার্কিন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওবামার উদ্বেগ

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০১:১৩:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের সর্বশেষ ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বারাক ওবামা। শিকাগোয় মঙ্গলবার সন্ধ্যার ভাষণে অর্থনৈতিক বৈষম্য, জাতিগত বিবাদ ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সামনের দিনগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ওবামার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক ঘটবে ২০ জানুয়ারি। এর আগে এটিই ছিল মার্কিনদের উদ্দেশে দেয়া ওবামার সর্বশেষ ভাষণ। খবর বিবিসি, টেলিগ্রাফ ও নিউইয়র্ক টাইমস।

বিদায়ী ভাষণে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বর্ণবাদ ও ক্ষুদ্র মানসিকতা মার্কিন গণতন্ত্রকে বিবর্ণ করে তুলতে পারে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেন ওবামা। এ সময় মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে সমুন্নত অবস্থানে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘যখন নিজেদের আমরা অন্যদের চেয়ে বেশি মার্কিনী বলে দাবি করি, তখনই আমরা নিজেদের পারস্পরিক বন্ধনকে দুর্বলতর করে তুলি। আমরা পুরো ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত অপবাদ দিয়ে খারিজ করে দিই। সবকিছুর জন্য আমরা দায়ী করি রাজনৈতিক নেতাদেরই। কিন্তু এদের নির্বাচিত করায় আমাদের নিজস্ব ভূমিকার কথাটুকু কখনই ভেবে দেখি না।’ বারাক ওবামা বলেন, ‘গণতন্ত্র সেখানেই হুমকির সম্মুখীন হয়, যেখানে তাকে তা হতে দেয়া হয়।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা যদি সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারি, তাহলে যে পারস্পরিক বিরাগ ও বৈষম্য আমাদের উন্নতির পথ আটকে রেখেছে, সামনের দিনগুলোয় তা আরো জোরালো হয়ে উঠবে।’

এ সময় বর্ণবাদকে মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য ‘বিষ’ বলে অভিহিত করেন ওবামা। বক্তব্যে আফ্রিকান-আমেরিকানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের    ‘ন্যয় বিচারের জন্য সংগ্রামকে’ দেশটির অন্যান্য জনগণের দুর্দশার সঙ্গে একই সূত্রে গাঁথা বলে অভিহিত করেন ওবামা। বিশেষ করে মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দেখলে মনে হবে, অন্যদের সবার তুলনায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এরাই পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এদের চারপাশের জগত্টাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা ও জিম ক্রোর (অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে গৃহীত বর্ণবৈষম্যমূলক আইনগুলো) প্রভাব ষাটের দশকেই উবে গেছে বলে মনে করা হলেও তা যে এখনো বিদ্যমান, এ কথা স্বীকার করে নেয়ার জন্য শ্বেতাঙ্গ মার্কিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা।

এ সময় উত্তরসূরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে সরাসরি কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি তিনি। তবে শিগগিরই বিজয়ী রিপাবলিকান প্রার্থীর কাছে তার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করলে উপস্থিত দর্শকরা দুয়োধ্বনি দিয়ে ওঠেন। এর উত্তরে ওবামা বলেন, ‘আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো, একজন প্রেসিডেন্টের হাত থেকে পরবর্তীজনের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া।’

এ সময় আবেগাক্রান্ত ও অশ্রুসজল হয়ে পড়েন ওবামা। তিনি বলেন, ‘যেসব নীতিবোধ আমাদের আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, এ মুহূর্তে সেগুলো রক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

এর পরও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ও নিজের সাফল্য নিয়ে ওবামার প্রত্যয়ী বক্তব্য, ‘হ্যাঁ, আমরা পারি! আমরা করে দেখিয়েছি। আমরা পেরেছি।’

ভাষণে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সমতা, বৈচিত্র্য ও একতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়েছেন, তা ধরে রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ওবামা।

শিকাগোয় ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, মেয়ে মালিয়া ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী জিল বাইডেন বারাক ওবামার বিদায়ী ভাষণের সময় উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউজে আট বছরের কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী-কন্যাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ওবামা বলেন, ‘সাউথ সাইডের মেয়ে মিশেল রবিনসন, ২৫ বছর ধরে তুমি শুধু আমার স্ত্রী আর আমার সন্তানদের মা-ই নও, তুমি আমার সবচে ভাল বন্ধুও।’ 

মিশেলের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ওবামা আরো বলেন, ‘তিনি এমন একটি দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার কাছে আকাঙ্ক্ষিত ছিল না। এর পরও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে হোয়াইট হাউজকে সর্বজনীন রূপ দিয়েছেন মিশেল। ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার ভূমিকা নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈরী পরিবেশ ও জনগণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও পথভ্রষ্ট না হয়ে ধীশক্তি ধরে রাখায় নিজের দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশার প্রশংসা করেন তিনি।