খবর

কাল শুরু বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০১:১৩:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাবলিগ জামাতের ৫২তম আসর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে আগামীকাল। এ উপলক্ষে গতকাল থেকেই তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দুই পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম পর্বে ১৭ জেলা ও দ্বিতীয় পর্বে ১৫ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন মুসল্লিদের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ১০ সহস্রাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বাদ ফজর থেকে আমবয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। গতকাল থেকেই লাখ লাখ মুসল্লি তাদের খিত্তায় অবস্থান করেছেন। এছাড়া অনেক বিদেশী মুসল্লি তাদের কামরায় অবস্থান নিয়েছেন।

এবারের ইজতেমায় যেসব জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন 
প্রথম পর্বে ১৬ জেলার মধ্যে ঢাকা জেলা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, গাজীপুর, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা ও যশোর এবং দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা, মেহেরপুর, লালমনিরহাট, রাজবাড়ী, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, নোয়াখালী, বাগেরহাট, চাঁদপুর, পাবনা, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, বরগুনা ও বরিশাল জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। তবে ঢাকা জেলার মুসল্লিরা ইজতেমার দুই পর্বেই অংশ নেবেন।

১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। মাঝে চারদিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

উল্লেখ্য, দিন দিন বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হওয়া মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং স্থানসংকুলনা না হওয়ায় গত বছর থেকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের সূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গত বছর যে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন, এ বছর তারা ইজতেমায় অংশ নেবেন না।

বিশ্ব ইজতেমার তদারকি কমিটির সদস্য ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, লাখো মুসল্লির সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিরোধক ৩০০ বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর নয়টি ভাসমান সেতু এরই মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন।

র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, ইজতেমায় মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ১০ হাজারেরও বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।

ইজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টঙ্গী ময়দানে মুসল্লিরা জড়ো হবেন। তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনসেবার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ১৩ জানুয়ারি জামালপুর-টঙ্গী রুটে একটি স্পেশাল ট্রেন রাখা হয়েছে। ট্রেনটি জামালপুর থেকে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়ে বেলা সোয়া ২টায় টঙ্গী পৌঁছবে। একই দিন জুম্মা স্পেশাল ট্রেন নামে একটি ট্রেন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে টঙ্গীর উদ্দেশে যাবে। এছাড়া টঙ্গী-ঢাকা রুটে আরেকটি স্পেশাল ট্রেন টঙ্গী থেকে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা পৌঁছবে। দ্বিতীয় দিন ১৪ জানুয়ারি লাকসাম-টঙ্গী রুটে একটি স্পেশাল ট্রেন লাকসাম থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে টঙ্গী পৌঁছবে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন ১৫ জানুয়ারি ঢাকা থেকে টঙ্গীর উদ্দেশে সকাল পৌনে ৬টায় প্রথম ট্রেনের শিডিউল দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত এ ধরনের আরো ছয়টি ট্রেন ঢাকা থেকে টঙ্গীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। মুসল্লিদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পরবর্তীতে টঙ্গী-আখাউড়া-লাকসাম রুটে টঙ্গী থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে একটি স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে।

১৫ ও ২২ জানুয়ারি বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহার না করার পরামর্শ
বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন চলাচল করতে যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়ের জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১৫ জানুয়ারি (রোববার) ও ২২ জানুয়রি (রোববার) বিমানের অপারেশনস ও বিমান ক্রু বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সব ধরনের যানবাহনের চালককে বিমানবন্দর সড়ক পরিহার করে বিকল্প হিসেবে মহাখালী, বিজয় সরণি হয়ে মিরপুর-গাবতলী সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। একই সঙ্গে বিদেশগামী বা বিদেশ ফেরত যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেয়ার জন্য ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চারটি বড় আকারের মাইক্রোবাস নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেটে ভোর ৪টা থেকে প্রস্তুত থাকবে।