খবর

মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ০১:১৩:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের সে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য দেশটির প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশে সফররত মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উ কিয়াও তিনের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে শরণার্থী সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানে উপনীত হতে পারে।’

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিষয়ে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরুল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে তার ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেবে না।’ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। মিয়ানমারের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করা হবে।’ এ সময় তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠককালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে অং সান সু চির একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো গভীর ও সহযোগিতাপূর্ণ করতে ইচ্ছুক মিয়ানমার। দুই দেশের মধ্যে একটি সীমান্ত লিয়াজোঁ অফিস খোলার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকের সময় অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মিয়ো মিন্ট উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়  পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন  কিয়াও তিন। বৈঠকের পর উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশের আশা জাগানোর মতো বৈঠকে ইতিবাচক কিছু হয়নি। রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দেশটি। তবে তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে, তা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে। মূলত আন্তর্জাতিক চাপে লোক দেখানো সফরে এসেছেন। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে এসেছেন।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন হতে হয় স্বেচ্ছায়। বর্তমানে সেখানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে, সেখান থেকেই মানুষ পালিয়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছে। এখন সেখানে স্বেচ্ছায় কেউ যেতে চাইবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মতো মিয়ানমারও রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় বলে বৈঠকে জানিয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা হয়। রাখাইনে সাম্প্রতিক সেনা অভিযানের ঘটনায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার পাশাপাশি সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতেও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। এছাড়া নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে না আসে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।