খবর

কর্মশালায় বক্তারা

জলবায়ু আন্দোলনকে ধরে রাখতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:১৩:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বব্যাপী রিও কনভেনশন কর্মসূচির বাজেট কম হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু কিছু অঞ্চলে মরুকরণ হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তাই বাজেট এবং বিশ্ব নেতৃত্বের তোয়াক্কা না করে জলবায়ু আন্দোলন ধরে রাখতে হবে।

পরিবেশগত উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রিও প্রজেক্ট বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইউএনডিপির সহায়তায় কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ন্যাশনাল ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফর ইমপ্লিমেন্টিং রিও কনভেনশন থট এনভায়রনমেন্ট গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।

তিন বছর মেয়াদি রিও প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হবে ২০১৮ সালে। প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা (৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার)। বৈশ্বিক পরিবেশ উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশ্ব পরিবেশগত সম্মেলনে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং টেকসই উন্নয়ন ও রিও সনদের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে প্রকল্পটি।

কর্মশালায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুনে মনে হয়েছিল জলবায়ু আন্দোলন বুঝি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এ-সংক্রান্ত এক বক্তব্য আমাদের সেই আশঙ্কার অবসান ঘটিয়েছে। তাই বিশ্ব নেতৃত্বে যেই আসুক না কেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিপরীতে আন্দোলন অব্যাহত রাখব।

তিনি বলেন, জলবায়ু নিয়ে সচেতনতা যতটুকু হয়েছে তা যথেষ্ট। এখন সক্রিয় হয়ে কাজ করার সময়। পৃথিবীকে নিজেদের হূিপণ্ড মনে করে এর সুরক্ষায় সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাইসুল আলম মণ্ডলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত সোফিয়া অ্যাবার্ট, ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিয়োকো ইয়োকোসুকা, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল করিম, রিও প্রকল্প পরিচালক এএস মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আমরা অনেক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সভা-সেমিনার করি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোয় এ বিষয়ে কোনো পাঠ্যসূচি নেই। এছাড়া মিডিয়ার অংশগ্রহণও খুবই কম। এ দুটি প্রধান সংস্থাকে এর সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তারা।