খবর

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮%

বণিক বার্তা অনলাইন | ১৪:২৬:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সরকারের হিসাবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে আশা করা হলেও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক আরো বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো কমতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে তারপরও চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে থাকবে। প্রথম অবস্থানে থাকবে ভুটান। ২০১৭ সালে (ক্যালেন্ডার ইয়ার) দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে ভারত, প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ। আর সার্বিক দিক দিয়ে চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এতে বড় ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সংস্থাটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ২০১৭ (গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বিষয়ে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কমবে বিনিয়োগ। ফলে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমবে বাংলাদেশের। এর পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০১৮-১৯-এ আবার ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৭ শতাংশে দাঁড়াবে।

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, আমদানি ব্যয় কম হওয়ায় প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় কমলেও তা ভারসাম্য তৈরি করবে। তবে রাজস্ব খাতে ভারসাম্যহীনতা এবং আর্থিক ও করপোরেট ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা কমে যাওয়াকে অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি হিসেবে মনে করছে সংস্থাটি।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কারণে ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি থেকেই যাবে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। অর্থাৎ, গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের সরে যাওয়ার বিষয়টি (ব্রেক্সিট) বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলেও আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।