প্রথম পাতা

৬৫ হাজার রোহিঙ্গা ঢুকেছে বাংলাদেশে: জাতিসংঘ

বণিক বার্তা ডেস্ক | ২৩:৪০:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। সাম্প্রতিক এ অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে অন্তত ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই এসেছে ২২ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি বেশ নাজুক অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। খবর এএফপি।

জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে তারা জানায়, রাখাইন রাজ্যের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের খোঁজার নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অঞ্চলটিতে অভিযান পরিচালনা করছে। উত্তর রাখাইনে পরিচালিত এ অভিযান অত্যাচারের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, যাকে অনায়াসে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এ অভিযানের তীব্রতা ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগের হারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

তিন মাস আগে অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটি থেকে অন্তত ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সোমবার সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এ অভিযান ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শুধু গত এক সপ্তাহেই দেশটি থেকে ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার এলাকার নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গার কাছ থেকে রাখাইনে চলমান মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযানের ভয়াবহতা সম্পর্কে নানা তথ্য জানা যাচ্ছে। সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চলছে এক ধ্বংসযজ্ঞ। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ আর নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। এ ঘটনা দেশটির নবনির্বাচিত অং সান সু চির সরকারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফেলেছে। বিশেষত পার্শ্ববর্তী মুসলিমপ্রধান দেশ মালয়েশিয়া এ ঘটনায় সু চি সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করছে।

তবে মিয়ানমার সরকার বলছে, সেনা অভিযানে নির্যাতনের এ অভিযোগ বানোয়াট। তারা এজন্য একটি তদন্ত দলও গঠন করা হয়েছে বলে জানায়। গত সপ্তাহে ওই তদন্ত দল তাদের অন্তর্বর্তী একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে ‘গণহত্যা ও ধর্মীয় সহিংসতা’র অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, সেনাসদস্যরা ধর্ষণের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এমন বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। নিরাপরাধ রোহিঙ্গাদের পুলিশ সদস্যরা শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে সম্প্রতি প্রকাশিত এমন একটি ভিডিও সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন। এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে ইয়াঙ্গি লির নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে মিয়ানমার পরিদর্শনে রয়েছে। দলটি দেশটির কাচিন রাজ্যে অবস্থান করছে। ওই রাজ্যে সম্প্রতি মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে একটি দাঙ্গা হয়, যেখানে সেনাবাহিনীরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত সোমবার লির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি এ কাচিন রাজ্যে নিজস্ব তদন্ত শুরু করে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত লি মিয়ানমারে অবস্থান করবেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি তার প্রতিনিধি দলসহ রাখাইন রাজ্যও পরিদর্শন করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর আচরণ সম্পর্কে লি বিরূপ মন্তব্য করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন। এমনকি এজন্য তাকে হুমকিও দেয়া হয়েছে। দেশটির কট্টরবাদী বৌদ্ধ নেতা ভিরাথু তাকে প্রকাশ্যেই খুব বাজেভাবে গালিগালাজ করেছেন।