শেয়ারবাজার

২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশীদারিত্ব

শাহজিবাজার পাওয়ারের মুনাফা বৃদ্ধির আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২:১৬:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ২০০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সাউদার্ন সোলার পাওয়ার লিমিটেড। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সানএডিসন এনার্জি হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অংশীদার হিসেবে থাকছে মিডল্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, যার ৪৯ শতাংশ শেয়ার শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এসপিসিএল)। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জ মারফত বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসপিসিএল জানায়, চুক্তি বাস্তবায়নের পর তাদের মুনাফায় এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।

২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে সোমবার সাউদার্ন সোলার পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করে বিপিডিবি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাউদার্ন সোলার পাওয়ারের পক্ষে সানএডিসনের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমায়েল আরিয়াস গুরেরো, মিডল্যান্ড পাওয়ারের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসনাত ও পরিচালক আহসানুল কবির খান, এসপিসিএলের চেয়ারম্যান রেজাকুল হায়দার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলমসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্যেষ্ঠ অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে টেকনাফে অন্তত এক হাজার একর জমির ওপর সোলার পাওয়ার পার্কটি স্থাপনের কাজ শেষ করবে সাউদার্ন সোলার। গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে বিপিডিবির কাছ থেকে শূন্য দশমিক ১৭ ডলার হারে বিল পাবে তারা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা না হলে কোনো বিল দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়নি চুক্তিতে। প্রকল্পে ২০ শতাংশ মূলধন সরবরাহ করবে মিডল্যান্ড পাওয়ার। এর ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক হিসেবে আগামীতে এর সুফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এসপিসিএল।

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর নতুন বছরের শুরুতে এসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এসপিসিএলের শেয়ারদরে। ১ জানুয়ারি ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এর পর আরো কয়েক কার্যদিবসে এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী দেখা যায়।

ডিএসইতে গতকাল শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ারদর ১ দশমিক ২২ শতাংশ কমে সর্বশেষ ১৫৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। দিনভর এর দর ১৫৩ টাকা থেকে ১৬২ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে। দিন শেষে ২ হাজার ৯৫ বারে এ কোম্পানির ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০টি শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৭৬ টাকা ও সর্বনিম্ন ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করে শাহজিবাজার পাওয়ার। বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৫ টাকা ১৪ পয়সা। শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে কোম্পানিটি। এজন্য রেকর্ড ছিল ৫ ডিসেম্বর।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে শাহজিবাজার পাওয়ারের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৩ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৩২ টাকা ৬ পয়সায়।

শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩৭ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ১৭৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানির ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ৮ দশমিক ৬ ও বাকি ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সর্বশেষ এজিএমে অনুমোদিত নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ২২ দশমিক শূন্য ৯, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২০।