জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০ বিজয়ীদের একজন এনামতারা বেগম সাকী। গাজী রাকায়েত পরিচালিত গোর সিনেমার পোশাক পরিকল্পনা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। এনামতারা সাকী বলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমার জন্য একটি হঠাৎ বৃষ্টির মতো কিছু পাওয়া। যখন জানতে পারলাম প্রথমে মনে হলো, এটা কী হয়ে গেল!’
এনামতারা বেগম ছোটবেলা থেকেই বেশ মনোযোগী ছিলেন ছবি আঁকায়। স্কুলজীবনে মায়ের অনুপ্রেরণায় গান শিখেছেন। অভিনয় কিংবা ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে এসেছেন নিজের ইচ্ছায়। তার কথায়, “ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হই। মা এটা প্রথম দিকে মেনে নিতে পারেনি। পাশাপাশি ‘ঢাকা সড়ক’
নামে একটি নাট্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নাট্যকলা বিভাগ থেকে পাস করার পর আমি মঞ্চ নাটকে ডিরেকশন দেয়া এবং অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক ডিজাইনের কাজ শুরু করি।”
নিজের কাজ নিয়ে এনামতারা সাকী বলেন, ‘পোশাক ডিজাইন আমার পছন্দের এবং আনন্দের কাজ। সৈয়দ জামিল আহমেদ, মামুনুর রশীদ, ইস াফিল শাহীন, লিয়াকত আলী লাকীসহ উল্লেখযোগ্য নাট্যনির্দেশকের বিভিন্ন প্রযোজনায় পোশাক ডিজাইন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। পোশাক ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমি সবসময় প্রচলিত ধারার বাইরে কিছু করার চেষ্টা করি।’
গোর চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে এনামতারা সাকী বলেন, ‘আমি অনেক কৃতজ্ঞ যে গাজী রাকায়েত ভাইয়ের মতো একজন গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। পোশাকগুলো তৈরিতে আমি যে ধরনের প্রডাক্ট চেয়েছি, রাকায়েত ভাই সেটাই আমাকে করতে বলেছেন।’
এনামতারা সাকী একাধিক মঞ্চ নাটকে অভিনয়ও করেছেন। সেলিম আল দীন রচিত, জসিম উদ্দিন নির্দেশিত পুত্র এবং সৈয়দ জামিল আহমেদ নির্দেশিত রিজওয়ান নাটকে তার অভিনয় দর্শকের সাড়া পেয়েছে। তিনি বর্তমানে তাদের নিজস্ব নাট্য সংগঠন ‘কিসসা কাহিনী’
দলের সঙ্গে যুক্ত।
২০১৩ সালে ফিলিপাইন থেকে ওয়ার্ল্ভ্র কস্টিউম ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন এনামতারা বেগম সাকী। ২০০০ সালে ইয়ং ডিজাইনার অব দ্য মিলেনিয়াম ক্যা-ক্রাফট পুরস্কার লাভ করেন। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিবেক ও আর্ত-তে কাজ করেন তিনি। এনামতারা বেগম সাকী বলেন, ‘আমি কিছু পাওয়ার আশায় কাজ করি না। ভালো লাগার জায়গা থেকেই কাজ করি। আমি সামনে দর্শকদের জন্য আরো ভালো কাজ করার প্রত্যাশা করি।’